সমাস সহজে মনে রাখার শর্টকাট টেকনিক ও চেনার উপায়

সমাস মূলত প্রধানত ৬ প্রকার। নিচে প্রতিটি সমাস সহজে চেনার টেকনিক আলোচনা করা হলো:

১. দ্বন্দ্ব সমাস (মিলন বা বিরোধ বুঝায়)

  • চেনার টেকনিক: ব্যাসবাক্যে উভয় পদেরই অর্থ প্রধান থাকে এবং মাঝখানে ‘ও’, ‘এবং’, ‘অথবা’ বসে। এছাড়া এদের মধ্যে জোড়া বা বিপরীত শব্দ থাকে।

  • উদাহরণ: মাতা-পিতা (মাতা ও পিতা), জমা-খরচ, দা-কুমড়া (বিরোধ বুঝালেও দ্বন্দ্ব)।

  • শর্টকাট সূত্র: "মা-বাবা, ভাই-বোন, পতি-পত্নী — জোড়ায় জোড়ায় থাকলে দ্বন্দ্ব টানি।"

২. কর্মধারয় সমাস (বিশেষ্য ও বিশেষণের মিলন)

  • চেনার টেকনিক: এখানে পরপদের অর্থ প্রধান হয়। ব্যাসবাক্যে মাঝখানে ‘যে সে’, ‘যিনি তিনি’, ‘যা তাই’, ‘রূপ’ ইত্যাদি থাকে।

  • বিশেষ গঠন:

    • যে সে / যিনি তিনি: যে চালাক সেই চতুর ( চালাকচতুর)।

    • রূপ (রূপক কর্মধারয়): বিষাদ সিন্ধু (বিষাদ রূপ সিন্ধু), মন মাঝি।

    • উপমান ও উপমিত: চাঁদের মতো মুখ = চাঁদমুখ (উপমিত), তুষারের মতো শুভ্র = তুষারশুভ্র (উপমান)।

  • শর্টকাট সূত্র: "যে, যিনি, যা, রূপ — মাঝখানে পেলে কর্মধারয় রূপ।"

৩. তৎপুরুষ সমাস (বিভক্তির লোপ)

  • চেনার টেকনিক: এই সমাসে পূর্বপদের দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী বিভক্তি (কে, রে, দ্বারা, দিয়া, হইতে, থেকে, চে, র, এর, এ, তে, য়) লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়।

  • উদাহরণ:

    • দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত (দ্বিতীয়া)

    • মন দিয়ে গড়া = মনগড়া (তৃতীয়া)

    • খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাচাড়া (পঞ্চমী)

    • দেশের পতি = দেশপতি (ষষ্ঠী)

    • রণেন পটু = রণপটু (সপ্তমী)

  • বিশেষ ব্যতিক্রম (উপপদ তৎপুরুষ): কৃৎ বা ধাতু সাধিত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয়। যেমন: জলে চরে যে = জলচর, পঙ্কে জন্মে যা = পঙ্কজ।

৪. বহুব্রীহি সমাস (অন্য পদ বা অর্থ প্রকাশ পায়)

  • চেনার টেকনিক: সমাসবদ্ধ পদের কোনোটিরই অর্থ বোঝায় না, সম্পূর্ণ নতুন বা অন্য কোনো তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ পায়। ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘যাহার’, ‘যে’ থাকে।

  • উদাহরণ: বিনা পাণি যার = বিনাপাণি (সরস্বতীকে বোঝায়), দশ আনন যার = দশানন (রাবণ)।

  • অন্যান্য প্রকারভেদ:

    • সমানাধিকরণ (বিনা পাণি), ব্যধিকরণ (শীতে উষ্ণ = শীতউষ্ণ)।

    • মধ্যপদলোপী (বিড়ালাক্ষী যার = বিড়ালের চোখের মতো চোখ যার)।

  • শর্টকাট সূত্র: "নিজের বা প্রতিবেশীর অর্থ ছেড়ে যখন অন্য কাউকে বা তৃতীয় কাউকে বোঝাবে, সেটাই বহুব্রীহি!"

৫. দ্বিগু সমাস (সংখ্যাবাচক শব্দ)

  • চেনার টেকনিক: সমাসবদ্ধ পদটি যদি সংখ্যাবাচক শব্দ দিয়ে শুরু হয় এবং এর মাধ্যমে সমাহার বা সমষ্টি বোঝায়, তবে তা দ্বিগু সমাস।

  • উদাহরণ: তিন ত্রিসন্ধ্যার সমাহার = ত্রিসন্ধ্যা, শতাব্দের সমাহার = শতাব্দী, তোলাইয়ের সমাহার = তোলাই (তিন ওলা)।

  • সতর্কতা: সংখ্যা দিয়ে শুরু হলেই দ্বিগু নয়, যদি তা বহুব্রীহি অর্থ (যেমন: তিন তার যার = সেতার) না বুঝিয়ে সমষ্টি বোঝায় তবেই দ্বিগু।

৬. অব্যয়ীভাব সমাস (উপসর্গ যোগে গঠিত)

  • চেনার টেকনিক: পূর্বপদে অব্যয় (অথবা উপসর্গ) যুক্ত হয়ে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধানরূপে প্রতিভাত হয়, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। সাধারণত ‘সামীপ্য’, ‘যাবৎ’, ‘পশ্চাৎ’, ‘ঈষৎ’ ইত্যাদি অর্থে হয়।

  • উদাহরণ: মরণ পর্যন্ত = আমরণ, কূলের সমীপে = উপকূল, ক্ষদ্র নদী = উপগ্রহ, ভিক্ষার অভাব = দুর্ভিক্ষ।

  • শর্টকাট সূত্র: "আ, উপ, প্রতি, নি—এই উপসর্গগুলো সামনে দেখলে অব্যয়ীভাব ধরে ফেলবেন।"

মন্তব্যসমূহ

popular posts